যুক্তরাষ্ট্র প্রায়ই নীতিগত পরিবর্তনের আগে বিখ্যাত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জনমত তৈরি করে। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ নিয়ে তাদের অবস্থান পরিবর্তনের ইঙ্গিত কি নতুন কোনো রাজনৈতিক বাস্তবতা নির্দেশ করছে?
যুক্তরাষ্ট্রের নীতি ও বাংলাদেশের বাস্তবতা
যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়াকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়—কোনো সিদ্ধান্ত বা পরিবর্তন কার্যকর করার আগে তারা সরাসরি নয়, বরং প্রভাবশালী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রচারণা চালায়। এর মাধ্যমে এমন একটি জনমত তৈরি হয় যেন সিদ্ধান্তটি জনগণের মতামতেরই প্রতিফলন।
সম্প্রতি আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউট-এর সিনিয়র ফেলো মাইকেল রুবিন মন্তব্য করেছেন—“বাংলাদেশে বাইডেন নীতি থেকে ট্রাম্প প্রশাসনের সরে আসা উচিত। যারা অবৈধভাবে ক্ষমতায় এসে দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছে, তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ প্রয়োজন।”
অন্যদিকে, জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের দপ্তরে চারজন ব্রিটিশ এমপি ও কয়েকটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দিয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে ধারণা করা যায়, ট্রাম্প প্রশাসন ধীরে ধীরে বাংলাদেশ ইস্যুতে পূর্বের অবস্থান থেকে সরে যাওয়ার পথ তৈরি করছে। এর একটি কারণ হতে পারে—অযোগ্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে নীতি বাস্তবায়নের ব্যর্থতা, তবে আরও গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো বাংলাদেশের অনন্য রাজনৈতিক বাস্তবতা।
১৮ কোটি মানুষের এই ছোট্ট বদ্বীপে রিকশাচালক থেকে শুরু করে প্রায় সবাই রাজনীতি সচেতন। ফলে এখানে কিছু সুবিধাবাদীর প্রচারণা দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করা সহজ নয়। বাংলাদেশে যেকোনো বিদেশি নীতির সফলতা নির্ভর করে—জনগণের রাজনৈতিক বোধ ও তাদের স্বাধীনচেতা মানসিকতাকে বোঝার ওপর।








Leave a Reply